নীতিমালা / সংবিধান
মাদরাসাতু উমর ইবনুল খাত্তাব (রা:)
কাশিপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ।
প্রস্তাবনা
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে শিক্ষার্থীদেরকে দ্বীনি ও আধুনিক
শিক্ষায় আলোকিত করা এবং নৈতিকতাসম্পন্ন, দেশপ্রেমিক ও আদর্শবান প্রজন্ম গড়ে তোলাই
এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। এ সকল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটির
কার্যক্রম, পরিচালনা, সদস্যপদ, অর্থ ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যাবতীয়
নিয়ম-কানুন এই নীতিমালায় সন্নিবেশিত হলো।
ধারা ১: নাম,
ঠিকানা ও প্রকৃতি
১.১. প্রতিষ্ঠানের নাম: মাদরাসাতু উমর ইবনুল খাত্তাব (রা:)।
১.২. স্থায়ী ঠিকানা: কাশিপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ।
১.৩. প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি: এটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক
প্রতিষ্ঠান।
১.৪. প্রতিষ্ঠার সাল: ২০২৫।
ধারা ২: উদ্দেশ্য
ও লক্ষ্য
২.১. কুরআন, হাদিস, ফিকহ, আকাইদ, আরবি ভাষা ও সাহিত্যের মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার
প্রচার ও প্রসার।
২.২. বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও কম্পিউটার শিক্ষার মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষায়
শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ করে গড়ে তোলা।
২.৩. শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক চরিত্র, শিষ্টাচার ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন।
২.৪. মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান।
ধারা ৩: কার্যক্রম
৩.১. নূরানি, কিরাত, নাজেরা, হিফযুল কোরআন, দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) ও দীনী শিক্ষা
প্রদান।
৩.২. সাধারণ শিক্ষার (প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর) শ্রেণী পরিচালনা।
৩.৩. ইসলামী সাংস্কৃতিক ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম (সেমিনার, মাহফিল, রক্তদান শিবির
ইত্যাদি) আয়োজন।
৩.৪. ইসলামী
আদর্শভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে
প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা প্রদান।
ধারা ৪:
পরিচালনা পর্ষদ
৪.১. মাদ্রাসার
সকল কার্যক্রম একটি "পরিচালনা পর্ষদ" কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হবে।
৪.২. পর্ষদের গঠন:
* সভাপতি - ১ জন
* সহ-সভাপতি – ন্যূনতম ২ জন
* সাধারণ সম্পাদক - ১ জন
* সহকারী সাধারণ সম্পাদক – ন্যূনতম ২ জন
* কোষাধ্যক্ষ- ১ জন
* সদস্য - ন্যূনতম ১০ জন
* উপদেষ্টা – ন্যূনতম ৫ জন
৪.৩. পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্য মাদরাসার সাধারণ সদস্যদের সরাসরি ও গোপন ভোটে দুই (০২) বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। এই নীতিমালায় ‘সাধারণ সদস্য’ বলতে নিয়মিত অনুদানদাতা, শিক্ষার্থীর অভিভাবক, স্থায়ী সদস্য, শিক্ষক এবং স্থানীয় সমাজের বিশিষ্ট ও সুনামধারী ব্যক্তিবর্গকে বোঝানো হবে।
৪.৪. পরিচালনা পর্ষদের কোন সভা কার্যকর হতে হলে মোট সদস্য সংখ্যার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) সদস্যের উপস্থিতি আবশ্যক।
৪.৫. জমিদাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য হবেন এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
৪.৬. পরিচালনা
পর্ষদের দায়িত্ব:
* প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
* শিক্ষক, কর্মচারী নিয়োগ ও তাদের কর্ম পরিকল্পনা নির্ধারণ।
* বার্ষিক বাজেট ও আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন।
* জমি-জমা, ভবন ও অন্যান্য সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ।
* প্রয়োজনে উপ-কমিটি গঠন করা।
ধারা ৫:
কর্মকর্তাদের দায়িত্ব
৫.১. সভাপতি: প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদাধিকারী। তিনি পর্ষদের সকল সভার
সভাপতিত্ব করবেন এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন।
৫.২. সাধারণ সম্পাদক: প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম তদারকি, পর্ষদের সিদ্ধান্ত
বাস্তবায়ন এবং সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন।
৫.৩. কোষাধ্যক্ষ: প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ, ব্যাংক
লেনদেন তদারকি এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন।
৫.৪. উপদেষ্টাগণ: প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ দেবেন এবং বিরোধ
নিরসনে মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখবেন।
ধারা ৬: সদস্যপদ
৬.১. সদস্যের যোগ্যতা: প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য বিশ্বাসী, নৈতিক চরিত্রবান
এবং প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নাগরিক যেকোন ব্যক্তি সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করিতে
পারিবে।
৬.২. সদস্য পদ লাভ: পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে নতুন সদস্য মনোনীত হবেন।
৬.৩. সদস্যপদ বাতিল: কোন সদস্য প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ভঙ্গ করিলে, অথবা পরপর
তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকিলে, পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে তার সদস্যপদ বাতিল করিতে পারিবে।
ধারা ৭: অর্থ ও
তহবিল ব্যবস্থাপনা
৭.১. আয়ের উৎস:
* শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন।
* দান, ওয়াকফ ও অনুদান
* সরকারি ও বেসরকারি অনুদান।
* প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য বৈধ আয়।
৭.২. তহবিলের ধরন:
ক) সাধারণ তহবিল: প্রতিষ্ঠানের সকল নিয়মিত আয় এই তহবিলে জমা হবে এবং শিক্ষা
কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যয় ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হবে।
খ) গোরাবা তহবিল: দান, যাকাত, ফিদিয়া, কুরবানির পশুর চামড়া ও বিশেষ অনুদান
হতে আলাদাভাবে এই তহবিল গঠিত হবে। এটি কেবলমাত্র দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের
বেতন মওকুফ, শিক্ষা-সহায়ক খরচ, চিকিৎসা সহায়তা ও মানবিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে।
৭.৩. ব্যয়ের ক্ষেত্র:
পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে কোষাধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন মেটানোর জন্য
অর্থ ব্যয় করবেন।
৭.৪. বড় অঙ্কের ব্যয়:
জমি ক্রয়, ভবন নির্মাণ বা যে কোন প্রকারের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের
দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) সদস্যের লিখিত সম্মতি আবশ্যক।
৭.৫. বার্ষিক বাজেট:
প্রতিটি অর্থবছরের শুরুতে পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক একটি বার্ষিক বাজেট অনুমোদন করতে
হবে, যেখানে সাধারণ তহবিল ও গোরাবা তহবিলের হিসাব পৃথকভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
ধারা ৮: সভা ও
সিদ্ধান্ত গ্রহণ
৮.১. সভা:
* বার্ষিক সাধারণ সভা: বছরে একবার অনুষ্ঠিত হবে।
* পরিচালনা পর্ষদের সভা: প্রতি চার মাসে অন্তত একবার অনুষ্ঠিত হবে।
* জরুরি সভা: সভাপতি অথবা পর্ষদের এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের লিখিত অনুরোধে যে
কোন সময় ডাকা যাবে।
৮.২. সিদ্ধান্ত গ্রহণ: সাধারণভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। তবে, নীতিমালা সংশোধন, সদস্যপদ বাতিল ও বড় অঙ্কের ব্যয়ের ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন।
ধারা ৯: হিসাব
রক্ষণ ও নিরীক্ষা
৯.১. প্রতিষ্ঠানের সকল অর্থ স্থানীয় কোন তফসিলি ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা
একাউন্টে জমা রাখতে হবে।
৯.২. প্রতিষ্ঠানের সকল আয়-ব্যয়ের নিয়মিত ও স্বচ্ছ হিসাব রাখতে হবে।
৯.৩. প্রতি অর্থবছর শেষে একজন স্বাধীন ও যোগ্য নিরীক্ষক দ্বারা প্রতিষ্ঠানের সকল
হিসাব নিরীক্ষা করাতে হবে এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপন
করতে হবে।
ধারা ১০:
সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা
১০.১. প্রতিষ্ঠানের নামে ক্রয়কৃত/দানকৃত সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি
প্রতিষ্ঠানেরই মালিকানাধীন থাকবে।
১০.২. কোন সদস্য বা পরিচালক ব্যক্তিগতভাবে প্রতিষ্ঠানের কোন সম্পত্তির মালিকানা
দাবি করিতে পারিবে না।
১০.৩. প্রতিষ্ঠানের কোন সম্পত্তি বিক্রয়, বন্ধক বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে পরিচালনা
পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের লিখিত সম্মতি ও উপদেষ্টাদের পরামর্শসহ বাংলাদেশের
প্রচলিত আইন অনুসরণ করতে হবে।
ধারা ১১:
নীতিমালা সংশোধন
এই নীতিমালার কোন ধারা সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন করতে হলে পরিচালনা পর্ষদের
দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) সদস্যের লিখিত সম্মতি আবশ্যক।
ধারা ১২:
বিধি-বিধান
১২.১. প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও রীতি-নীতির আওতায়
পরিচালিত হবে।
১২.২. বাংলাদেশের
প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের নামে জমি-জমা, ভবন ইত্যাদি রেজিস্ট্রি করা যাবে এবং প্রতিষ্ঠান
তার নামে মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করার ক্ষমতা রাখবে।
ধারা ১৩:
স্বাক্ষর ও অনুমোদন
এই নীতিমালা পরিচালনা পর্ষদের সভায় গৃহীত এবং নিম্নের স্বাক্ষরকারীগণ কর্তৃক
অনুমোদিত হলো।
সভাপতি সাধারন সম্পাদক কোষাধ্যক্ষ